সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬

সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

রাজনীতি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়েতের প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে রবিবার

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

2003

রাজনীতি: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়েতের প্রার্থী চূড়ান্ত হতে পারে রবিবার

দৈনিক অদম্য বার্তা ডেস্ক: ঢাকা রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩ || ২৫ সফর ১৪৪৮ হিজরি

ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক || .কম

জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত না করেনি। তবে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকের পরই দলটির প্রার্থী কিংবা জোটের সমর্থিত প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার রাতে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার জোটের শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।

জামায়াত ও জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের নাম আলোচনায় রয়েছে। জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নামও বিবেচনায় আছে। এর বাইরে জোটের বাইরে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তিকে প্রার্থী করার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। এক্ষেত্রে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের নাম বিবেচনায় রয়েছে। তবে আলোচনায় থাকা এসব নামের কোনোটিই এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।

রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে জোটের শরিকদের সঙ্গে জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা এবং শরিকদের মতামত নেওয়া হবে। বৈঠকের পরই জোটের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে প্রার্থী হচ্ছেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা আসতে পারে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ তথ্য প্রদান করে ব্যক্ত করেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী নির্ধারণ বাস্তবায়ন করা হবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সংসদে বিএনপির রয়েছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না; সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে বর্তমান সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাব বিবেচনায় বিএনপি যে প্রার্থী দেবে, তারই নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ কারণে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জয়-পরাজয়ের সরল হিসাবের চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করেনোর উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের এক সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যক্ত করেন , রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক চর্চাকে আরো কার্যকর করার বার্তা দিতে চায় আমাদের দল। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলের প্রার্থী দেওয়ার যে ঐতিহাসিক নজির রয়েছে, সেটিও সামনে এসেছে।”

১৯৯১ সালের ৮ ই অক্টোবর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর এটিই প্রথম পরোক্ষ নির্বাচন ছিল। আবদুর রহমান বিশ্বাসকে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত করেছিল এবং বদরুল হায়দার চৌধুরীকে তৎকালীন বিরোধী দলী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত করেছিল। নির্বাচনে আব্দুর রহমান বিশ্বাস পান ১৭২ ভোট ও বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। আবদুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের শপথ গ্রহণ করেন এবং ১৯৯১ সালের ১০ই অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এটি ছিল বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তবে দীর্ঘ সময় পর বিরোধী শিবির থেকে আবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ায় এবারের নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

অবশ্য নির্বাচনের ফলাফলের ক্ষেত্রে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। দলটির প্রার্থী কে হচ্ছেন, সেটি নির্ধারিত হওয়ার পরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সমীকরণ আরো পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে জামায়াত শেষ পর্যন্ত একক প্রার্থী দিচ্ছে, নাকি জোটের পক্ষ থেকে অভিন্ন প্রার্থী ঘোষণা করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন সাহাবুদ্দিন। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন।

ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৮ আগস্ট। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আবদুল লতিফ মাসুম সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু জয়-পরাজয়ের হিসাব দিয়ে দেখলে এর রাজনৈতিক তাৎপর্য পুরোপুরি বোঝা যাবে না। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তারপরও জামায়াতের প্রার্থী দেওয়ার মধ্য দিয়ে দলটি সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান ও গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার বার্তা দিতে চাইছে। একই সঙ্গে এটি জোটের অভ্যন্তরে জামায়াতের রাজনৈতিক প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতারও একটি পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত তারা কাকে প্রার্থী করে এবং বিএনপির প্রার্থীর বিপরীতে কতটা রাজনৈতিক সমর্থন তৈরি করতে পারে, সেটিই এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত তাৎপর্য নির্ধারণ করবে।”

এ সপ্তাহের রাশিফল (৮-১৪ আগস্ট)

আমার সঙ্গে বিয়ে নয়, স্বপ্নে বাসর হয়েছিল, রিজভীকে শাবনূর

ভুলগুলো না হলে জীবন আরও স্মুথ হতে পারত: শাকিব খান

ঠিকানা: ১৯৮-১৯৯, মাজার রোড, মিরপুর-১, ঢাকা ১২১৬

একটি স্কাইরুট মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান

মার্কেটিং : +৮৮-০১৬৮৬৬৯৩৫৪৯ +৮৮-০১৬৮৬৬৯০২৬৬

Install for faster, offline access

Link copied!