মঙ্গলবার ১১, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ১১, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

বেড়ার চরাঞ্চলে ১৩ বছরেও নৌ অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাননি জনগণ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

2047

পাবনার বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বরাদ্দ হওয়া নৌ–অ্যাম্বুলেন্সটি এক দশকের বেশি সময় ধরে অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে থাকায় চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবায় কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি।

সম্প্রতি বেড়া উপজেলার চরসাফুল্যা গ্রামে যমুনার দুর্গম চরে এক গর্ভবতী নারী প্রসব বেদনায় পড়েন। সকাল থেকে দাই ও স্থানীয় চিকিৎসকের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় আবুল কাশেম তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু বিকেলে কোনো ইঞ্জিনচালিত নৌকা না পেয়ে স্থানীয়রা বিপাকে পড়েন।

শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যার পর কষ্টে একটি ছোট নৌকা জোগাড় করে কয়েক ধাপে তাকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। মা ও সন্তান প্রাণে বাঁচলেও স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নৌ অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলে ঘটনাটি কয়েক ঘণ্টা আগেই সমাধান করা যেত এবং ঝুঁকি কমে যেত।

আবুল কাশেম বলেন, “নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি ১০–১২ বছর ধরে অকেজো। যদি এটি সচল থাকত, জরুরি রোগী দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো যেত।”

বেড়া উপজেলার প্রায় এক লাখ চরবাসীর জন্য বরাদ্দ হওয়া নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি এক যুগের বেশি সময় ধরে এক দিনেরও সেবা দিতে পারেনি। এটি এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আগাছা ভরা অংশে পড়ে আছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে সরকার চরাঞ্চলের মানুষের জরুরি চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নৌ অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করেছিল। তবে বাস্তবে এটি কখনোই কাজে আসে নি। দীর্ঘদিন নদীর পানিতে ডুবে থাকা এবং অযত্নের কারণে এটি অকেজো হয়ে পড়েছে। ইঞ্জিনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অনেক চুরি হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পরিকল্পনার অভাব ও তদারকির ঘাটতির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ শুরু থেকেই ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে চরাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা ও যমুনা নদীর চরাঞ্চল দিয়ে ঘেরা। নদীবেষ্টিত প্রায় ২৫টি চরে প্রায় এক লাখ মানুষ বসবাস করে। এ এলাকার যোগাযোগ প্রায় পুরোপুরি নৌপথের উপর নির্ভরশীল। বর্ষা মৌসুমে অনেক গ্রাম কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার একমাত্র উপায় হলো নৌকা বা ট্রলার।

দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা গ্রামের বাসিন্দা মো. ইব্রাহিম বলেন, “নৌ অ্যাম্বুলেন্স চালু থাকলে গুরুতর অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জীবন রক্ষা করা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলায় এটি অচল হয়ে গেছে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ওয়ান বেড ক্লিনিক বোটটি (নৌ অ্যাম্বুলেন্স) বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা ও জনবল না থাকায় এটি নদীতে রাখা হয়েছিল। তদারকির অভাবে দুর্বৃত্তরা এটি ডুবিয়ে দেয়। ২০১৭ সালে তৎকালীন উপজেলা কর্মকর্তা মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা এখন নতুন নৌ অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত মেরামত ও চালুর দাবি জানিয়েছেন।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, “নৌ অ্যাম্বুলেন্সটি কেন চালু করা যায়নি তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এটি অচল অবস্থায় পড়েছিল।”

বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুনাল্ট চাকমা বলেন, “বিষয়টি নজরে এসেছে। কেন এটি দীর্ঘদিন অকার্যকর ছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। চরাঞ্চলের মানুষ যাতে জরুরি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

Link copied!