মঙ্গলবার ১১, আগস্ট ২০২৬

মঙ্গলবার ১১, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --

আন্তর্জাতিক: বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হেফাজতে নেওয়া হয় হওয়ায় এক ভারতীয়কে ধরে এনেছে স্থানীয়রা

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৩ এএম

2011

আন্তর্জাতিক: বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি হেফাজতে নেওয়া হয় হওয়ায় এক ভারতীয়কে ধরে এনেছে স্থানীয়রা

দৈনিক অদম্য বার্তা ডেস্ক: ঢাকা মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ২৭ ১৪৩৩ || ২৭ সফর ১৪৪৮ হিজরি

ঘটনাবলির বিস্তারিত বিবরণ

বাংলাদেশি এক প্রবীণকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা আটক করে নিয়ে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়া এক ভারতীয়কে ধরে আটকে রেখেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বাংলাদেশি নাগরিককে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয় নাগরিককে ছাড়া হবে না বলে জানিয়েছেন তারা।

বিষয়টি জানতে পারার পরে বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা ভারতীয় ওই নাগরিককে নিজেদের হেফাজতে নেন। পঞ্চগড় জেলার বিরাজোত সীমান্তে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়ছে বলে জানিয়েছে বাংলা।

পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবার গ্রামবাসীর হাতে আটক হওয়া ভারতীয় যুবকের নাম দীপঙ্কর গোপ। তাকে সীমান্তে অনুপ্রবেশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে তোলা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের যে প্রবীণকে বিএসএফ আটক করেছে, তার নাম তমিজ উদ্দিন। প্রায় ৮০ বছর বয়সী তমিজকে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা সম্পন্ন হয়েছে।

পাল্টাপাল্টি এমন আটকের ঘটনার পর কয়েক দফা পতাকা বৈঠক করেছে বিজিবি ও বিএসএফ। দুই দেশের আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

বিএসএফের হাতে আটক হওয়া তমিজ উদ্দিন বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার অন্তর্গত সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত গ্রামে।

স্বজনদের ভাষ্য, তমিজ উদ্দিন ৫ অগাস্ট সকালে ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন একটি মাঠে গরু চরাতে গিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে একটি গরু ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ে। সেই গরু আনতে গেলে বিএসএফের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যায়।

তমিজ উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলী সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “আমার বাবার বয়স ৮০ বছর। তিনি ভালোমতো হাঁটতেও পারেন না, ঠিকমত কানেও শোনেন না। সে ইচ্ছা করে ওপারে যায়নি। গরু চলে গেছে বলে পিছে পিছে গেছে।”

ঘটনার পর তমিজ উদ্দিনের আটক হওয়ার খবরটি বিজিবিকে নিশ্চিত করেনো হয়।

বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটকের পর বিএসএফ সদস্যরা তমিজ উদ্দিনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সীমান্তে আটক দীপঙ্কর গোপ পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের আওতাধীন কুকুরজান গ্রামের বাসিন্দা। তার প্রতিবেশীরা তথ্য প্রদান করে ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে দীপঙ্করের ছোট একটি চা বাগান রয়েছে। গত শনিবার সকালে সেখানে কাজ করতে গিয়েছিলেন তিনি।

বিশ্বনাথ রায় নামে গোপের এক প্রতিবেশী সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “অন্য দিনের মতোই সীমান্তের গেটে নথি দেখিয়ে নাম লিখিয়ে ও চা বাগানে কাজে গিয়েছিল। আরো কৃষকরাও ছিল কাছাকাছি। হঠাৎই তারা খেয়াল করে যে, দীপঙ্করকে দেখা যাচ্ছে না। পরে তারা জানতে পারেন, বাংলাদেশ সীমান্তে ঢুকে পড়ার কারণে বিরাজোত গ্রামের বাসিন্দারা তাকে ধরে নিয়ে গেছে। এরপর আমরা জানতে পারি যে, কয়েক দিন আগে যে বাংলাদেশি মানুষকে এদিকে চলে আসার জন্য ধরা হয়েছিল, তাকে না ছাড়লে দীপঙ্করকে ফেরত দেবে না।”

পঞ্চগড়ের বিরাজোত গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, ভারতীয় সীমান্তের কাছে ফয়জুল ইসলাম নামের এক বাংলাদেশির একটি আখের খেত রয়েছে। দীপঙ্কর গোপ ওই খেত থেকে ‘আখ চুরি করতে গেলে’ তাকে আটক করা হয় বলে দাবি করেছেন বিরাজোত গ্রামের বাসিন্দারা।

তমিজ উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলী সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “ওই লোক এসে আখখেত থেকে চুরি করে আখ ভাঙতেছিল। তখন সেখানে আমাদের এক ভাই ছিল পাহারায়। ও আমাদের ফোন দেয়। এরপর আমরা সবাই দৌড়ে যেয়ে ভারতের ওই লোকরে আটক করি।”

পঞ্চগড়ের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুরুতে তারা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমের সমস্যাটির সমাধান করতে চেয়েছিলেন। সেজন্য আটকের পরপরই দীপঙ্কর গোপের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের না করে অপেক্ষা করছিলেন তারা। কিন্তু পতাকা বৈঠকের একপর্যায়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে নিশ্চিত করেনো হয় যে, বাংলাদেশি নাগরিক তমিজ উদ্দিনকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা সম্পন্ন হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলাসহ অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া শুরু সম্পন্ন হয়েছে। এটি জানার পর গত রবিবার ভারতের নাগরিক দীপঙ্কর গোপকেও পঞ্চগড় জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন বিজিবির কর্মকর্তারা। এরপর রাতেই তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করা হয়।

পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু সাইম সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “আমরা ওই লোকটাকে নিয়ে এসেছি গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায়। নিয়ে এসে মামলা রেকর্ড করে তাকে কোর্টে চালান দেওয়া হয়।”

বিষয়টি নিয়ে র তরফ থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিয়মের মধ্যে থেকেই তারা উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তিনি সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “যা হবে তা, আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের মধ্যে নিয়ম, আইন মেনেই বাস্তবায়ন করা হবে।”

কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তমিজ উদ্দিন এবং দীপঙ্কর গোপ ঠিক কবে নাগাদ বাড়ি ফিরতে পারবেন, সেটি এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা।

‘এটা আমাদেরই গল্প’ নাটকের ফারহানার এসএসসির জিপিএ কত?

এসএসসিতে পাসের হার ৬২.২৫ শতাংশ

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের সম্ভাবনা, আলোচনায় যারা

একটি স্কাইরুট মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান

মার্কেটিং : +৮৮-০১৬৮৬৬৯৩৫৪৯ +৮৮-০১৬৮৬৬৯০২৬৬

Install for faster, offline access

Link copied!