প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
2005
সোমবার ১০, আগস্ট ২০২৬ -- : -- --
রাজনীতি: ঢাকার সড়কে আসছে বৈদ্যুতিক এসি বাস
দৈনিক অদম্য বার্তা ডেস্ক: ঢাকা রোববার ০৯ আগস্ট ২০২৬ || শ্রাবণ ২৫ ১৪৩৩ || ২৬ সফর ১৪৪৮ হিজরি
রাজধানীর গণপরিবহনে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বিদ্যুৎচালিত একতলা এসি বাস। এর মাধ্যমে জ্বালানিনির্ভর গণপরিবহনের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি রাজধানীতে অপেক্ষাকৃত পরিবেশবান্ধব ও আরামদায়ক বাস সেবা চালুর লক্ষ্য নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
হিলির চার লেন সড়কে ফের কাজ শুরু, উদ্বোধন সমাজকল্যাণমন্ত্রীর
দেশব্যাপী উন্নয়নের ঢেউ শুরু সম্পন্ন হয়েছে: সেতুমন্ত্রী
‘বিআরটিসির জন্য ইলেকট্রিক একতলা এসি বাস সংগ্রহ’ নামে প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা সম্পন্ন হয়েছে ২ হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা এবং বিদেশি ঋণ থেকে ২ হাজার ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা সম্পন্ন হয়েছে।
প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্য বিদেশি অর্থায়নের উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার Economic Development Cooperation Fund (EDCF)-কে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। নীতিগত অনুমোদনের পর বিদেশি অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে প্রস্তাবটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, অর্থায়ন নিশ্চিত করে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে চলতি বছর থেকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হয়ে ২০৩১ সালের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ গত ১০ মে প্রকল্পটির পিডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় তিন-চতুর্থাংশই বিদেশি ঋণ থেকে সংগ্রহের পরিকল্পনা করা সম্পন্ন হয়েছে।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “সরকার ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা করছে। এর সঙ্গে চার্জিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। ইলেকট্রিক বাস কেনার একটি প্রস্তাব অর্থায়নের জন্য পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে।”
বৈদ্যুতিক বাসের পরিকল্পনা বাংলাদেশে গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক বাস চালুর পরিকল্পনা নতুন নয়। বিআরটিসি এর আগেও বৈদ্যুতিক একতলা ও দ্বিতল বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে নিশ্চিত করেনো হয়েছিল, বিআরটিসির জন্য ১০০টি বৈদ্যুতিক একতলা এসি বাস এবং ১০০টি বৈদ্যুতিক দ্বিতল বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া আগের বিভিন্ন প্রস্তাবে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহের কথাও এসেছে। ২০২৩ সালের একটি প্রস্তাবে ৩৪০টি বৈদ্যুতিক এসি বাস কেনার পরিকল্পনার কথা প্রকাশিত হয়েছিল, যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ১৩৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং কোরিয়ার EDCF ঋণের মাধ্যমে বড় অংশ অর্থায়নের কথা ছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে এসব উদ্যোগের কিছু বাতিল বা পুনর্বিবেচনার তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। ফলে ২০২৬ সালের বর্তমান প্রস্তাবকে আগের প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতায় দেখা গেলেও এটি নতুন পিডিপিপি ও নতুন অর্থায়ন কাঠামোর প্রস্তাব হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈদ্যুতিক বাসে কেন জোর রাজধানীর গণপরিবহনে বৈদ্যুতিক বাস যুক্ত করার অন্যতম লক্ষ্য হলো জ্বালানি খরচ ও পরিবহন খাতের দূষণ কমানো। বৈদ্যুতিক বাসে প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের মতো সরাসরি নিষ্কাশন ধোঁয়া থাকে না।একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে পরিচালন ব্যয় কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্য অবকাঠামো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে পর্যাপ্ত চার্জিং স্টেশন, বিদ্যুৎ সরবরাহ, ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনবল তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
বিআরটিসির বৈদ্যুতিক যানবাহন-সংক্রান্ত আগের পরিকল্পনাগুলোতেও চার্জিং অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বিআরটিসির একাধিক বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রকল্পের আওতায় চার্জিং স্টেশন এবং সংশ্লিষ্ট জনবল প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
ঢাকার গণপরিবহনে বদলের চাপ রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় গত কয়েক বছরে মেট্রোরেল, বাস রুট রেশনালাইজেশনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব যানবাহনে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় শুধু নতুন বাস নামালেই সমস্যার সমাধান হবে না; বাসের মান, রুট ব্যবস্থাপনা, নির্দিষ্ট স্টপেজ, চার্জিং অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালন ব্যবস্থাপনাকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে।
এই বাস্তবতায় নতুন প্রকল্পের সাফল্য শুধু কতটি বাস কেনা হলো তার ওপর নির্ভর করবে না। বাসগুলো কোথায় চলবে, কীভাবে চার্জ দেওয়া হবে, প্রতিদিন কত সময় সেবা দিতে পারবে এবং পুরোনো বাসের তুলনায় প্রকৃত পরিচালন ব্যয় কতটা কমবে, এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
২০৩১ পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্য প্রস্তাবিত প্রকল্পটি অর্থায়ন ও চূড়ান্ত অনুমোদনের ধাপ পার হলে ২০২৬ সাল থেকে বাস্তবায়ন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার কথা।
তবে বর্তমানে এটি এখনো প্রস্তাবিত প্রকল্প। বিদেশি ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং পরবর্তী ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে সড়কে ঠিক কবে থেকে নতুন বৈদ্যুতিক এসি বাস চলবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “সরকার পরিবহন খাতকে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর করার দিকে এগোচ্ছে। ইলেকট্রিক গাড়ির ব্যবহার বাড়ানো, পুরোনো বাস স্ক্র্যাপিং নীতি এবং মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহনকে সমন্বিত করে একটি ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগের কথা ভাবছে।”
তিনি সবিস্তারে উল্লেখ করেন, “এটি করা গেলে রাজধানীর গণপরিবহনে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে। ডিজেলনির্ভর বাসের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক বাসের উপস্থিতি বাড়লে একদিকে যাত্রীদের জন্য তুলনামূলক আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে ঢাকার দীর্ঘদিনের বায়ুদূষণ ও জ্বালানি-নির্ভরতার চাপ কমানোর পথও কিছুটা সহজ হবে।”
এ সপ্তাহের রাশিফল (৮-১৪ আগস্ট)
কালীগঞ্জের আলোচিত ওসি জেল্লাল হোসেন প্রত্যাহার
ঢাকার বাইরে উন্নত চিকিৎসায় চীনের সহায়তায় ২০ হাসপাতাল
একটি স্কাইরুট মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান
মার্কেটিং : +৮৮-০১৬৮৬৬৯৩৫৪৯ +৮৮-০১৬৮৬৬৯০২৬৬
Install for faster, offline access